বিয়ে ছাড়া বউ || প্রথম পর্ব ||

বিয়ে ছাড়া বউ

বড়িওয়ালা আমাকে জিজ্ঞাস করলেন

বাড়িওয়ালাঃ তুমি বিবাহিত না ব্যাচেলর?

আমিঃ ব্যা! বলতে যাব তখনি কেউ আমাকে আটকিয়ে বলে উঠলো।
অপরিচিতাঃ বিবাহি! আমিই ওর বউ একটা মেয়ের কন্ঠে. পিছনে তাকিয়ে দেখলাম একটা পড়ির দাড়িয়ে আছে.. না না পড়িনা একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটির মাথায় সমস্যা আছে মনে হয়.  আমি বললাম একটা অপরিচিত ছেলেকেও কেউ স্বামি বামায় নাকি… এটা তো আমার মনে হয় যে পাবনার পাগলী আমিও তো মেয়েটাকে চিনি না। বাড়িওয়ালা অবাক হয়ে বল্লেন.

বাড়িওয়ালা ঃ মেয়েটা কি তোমার স্ত্রী? আমি কি বলবো মনে মনে ভাবছিলাম এই বাসাটা ছাড়া যাবে না. কারণ এরকম বাসাতো আর কোথায় পাওয়া যাবে নাতো

বাড়িওয়ালা ঃ কি হলো কিছু বলছো না যে

আমি… না মানে হ্যা
মেয়েটা… আংকেল ও কি বলবে সকালে ঝগড়া করছি বলে আমাকে চর মেরে একা চলে এসেছে।বাড়িওয়ালা আামর দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে.. যেনো ওনার মেয়েকে মেরেছি. আরে আংকেল আপনি এ ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? ঠাসস! আর অমনি আমার গালে হাত.. বাড়িওয়ালা রাগি চোখে বললেন

 

বাড়িওয়ালা ঃ এতোও মিষ্টি মেয়ে কে কেউ কি মারে. তোমাকে দেখে ভালো মানুষ মনে করেছিলাম. কিন্তু তুমি তো! তা মা তোমাদের হাতে আলাদা আলাদা লাকেজ কেনো? হায় মনে হয় ফেসে গেলাম
মেয়েটি.. বরে আংকেল ঔ যে সকালে ঝগড়া। বাড়িওয়ালা আবার আমার দিকে তাকালেন.. আৃি তো ভয়ে ভয়ে শেষ। যাই হোক মেয়েটা কিন্তু জিনিয়াস
বাড়িওয়ালা ঃ ত তোমার নাম কি মামুনি
মেয়েটা.. শুভাকা সবাই শুভা বলে ডাকে
বাড়িওয়ালা ঃ বর ঔ বজ্জাতের নাম কি?

আরে আমি বজ্জাত হলাম কি করে। ব্যাটা তুই যদি বাড়িওয়ালা না হতি তা হলে তোর খবর করে ছারতাম মনে মনে বললাম
শুছাকা.. ওর নাম তো
আমি.. জয়
শুভাকা.. আর আমাকে বলতেও দিবা তো.. ওনার নাম জয়

বাড়িওয়ালা ঃ তা বলোতো তোমাদের কি নিজেস্ব কোনো বাসা নেই কি ?

শুভাকা.. আসলে আমি আর জয় একসাথে চাকরি করি ।  আর এখান থেকে অফিস খুবই কাছে তাই এখানে আমরা উঠলাম
বাড়িওয়ালা ঃ ওও ভালো.. আচ্ছা তোমরা যাও ঔ যে তোমাদের রুম.. বাড়িওয়ালা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো…আমি আর শুভাকা রুমে ঢুকলাম। আসলে আমি ব্যাচেলর বাসা খুঁজছিলাম আর আমার নামটা তো আপনারা জেনেই গেলেন.. আমি জয় ব্যাচেলর দেখে কেউ বাসা ভাড়া দিচ্ছিলো না প্রায় সারা শহর ঘুড়ে ফেলেছি শেষে ওই বাসা এসে
আমি ও শুভাকা রুমে-ডুকে একে অপরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি.. আর এখনোও হাত আমারই গালে।
শুভাকা.. খুব লেগেছে বুঝি.. আমি মাথা কাত করলাম

 

শুভাকা.. ইসসস ব্যাথা করছে?
আমি.. না! এটা কি হলো
শুভাকা.. কই কি হলো!
আমি.. কি হল মানে? আপনি আমার বউ হলেন কি ভাবে?
শুভাকা.. ও সরি সরি.. আসলে আপনারও বাসা প্রয়োজন আমারো প্রয়োজন তাই
আমি.. ওও আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। আমি বজ এক সপ্তাহ ধরে বাসা খুঁজছিলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না.. আপনার জন্য আজ এই বাসাটা পেলাম

শুভাকা.. ধন্যবাদ দেয়াই লাগবে না তো এটাতো আমারও প্রয়োজন ছিল
আমি.. আচ্ছা আমরাতো পরিচিত হলাম না
শুভাকা… হলাম তো আমি শুভাকা… চাকরি করি আচ্ছা আপনি কি করেন?
আমি.. আমিও চাকরি করি.. আপনার পরিবার..
শুভাকা.. কিছুই বলছে না..
আমি.. কি হলো শুভাকা

শুভাকা.. আমি অনাথ বলে আমার দিকে ছলছল চোখে তাকিলো।
আমি.. সরি বুঝতে পাড়িনি
শুভাকা.. না ঠিক আছে! আপনার পরিবার?
আমি.. মা বাবা আর ছোট বোন
শুভাকা.. তারা কোথায়?

আমি.. তারাতো রংপুরে।আর আমি ফুস মানে পালিয়ে এসেছি
শুভাকা.. আবাক হয়ে বললো কেনো?
আমি.. আসলে হয়েছে কি মা তার বান্ধবী মেয়েকে বউ বানাতে চায় আর বাবা চায় তার বন্ধু মেয়েকে আবার সামানতিয়া মানে আমার বোন তার বান্ধবী কে ভাবি বানাতে চায়। আর আমি তাদের মাঝে থেকে ফস। দ্যাটস ইট
শুভাকা… হিহিহি শুভাকা খিলখিল করে হাসছে। আমি শুভাকার দিকে আছি
শুভাকা.. কি দেখছেন অমন করে
আমি.. আমার বউ সরি আপনাকে।

 

শুভাকা.. আমাকে দেখার কি আছে
আমি.. আপনি এত সুন্দর যদি নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পাড়ি..
শুভাকা.. রেগে দিয়ে…. কি??
আমি.. না কিছু না। আচ্ছা আমরা তো বাসাটাই ভালো করে দেখলাম না
শুভাকা… হ্যা চলুন দেখেনিই

এখানে মোট চারটা রুম একটা বেডরুম, একটা কিচেন,একটা ডাইনিং রুম বর একটা অমনি ষ্টোর রুমের মত কিন্তু বেড একটাই। শুভাকা আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর আমি শুভাকার দিকে তাকিয়ে আছি। দুইজনে একসাথে বলে উঠলাম বেড তো একটা
শুভাকা.. সমস্যা নাই সোপা তো আছে..
আমি.. সোপা তো অন্য রুমে
শুভাকা.. তো
আমি.. না কিছু না
শুভাকা.. আচ্ছা চলো রুমগুলা গোছাতে হবে।
আমি.. আমার খুব ক্লান্ত লাগছে।

শুভাকা.. কি? এসব বললে চলবে না.. দুজনেই রুম সাজাবো. তার পরে আর কি রুম গুলো সাজাতে লাগলাম..ওও বলে দিচ্ছে আর আমি সব করছি.. জীবনে যা করিনি সেসব করতেছি।
আমি.. দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন আমি আর পারবো না ঠাস করে বেডে শুয়ে পরলাম শুভাকা হেসেই খুন.. রুম গোছানো প্রায় শেষ। আমি শুয়ে আছি হাত পা মেলে.. তখনি কলিং বেলের শব্দতো ২ / ৩ বার বেজে গেছেই আমিও উঠছি নাতো শুভাকা আমার কমড়ে হাত দিয়ে বললযে

শুভাকা.. কি হলো দরজা খুলছো না কেনো শুনি
আমি.. আপনি খুলুন গিয়ে
শুভাকা.. খুলতে বলছি খুলুনতো. না হয় কিন্তু খবর আছে… কি আর করার বলুন উঠে গিয়ে দেখি বারিওয়ালি সামনে
আমি.. আরে আন্টি ভিতরে আসুন

আন্টি.. না বাবা ভিতরে যাব না.. এই নাও তোমাদের রাতের খাবার খেয়ে নিও
আমি.. জি আচ্ছা
আন্টি.. শুভাকা কোথায়
আমি.. উনিতো ভিতরে।
আন্টি.. তুমি শুভাকে আপনি বলে ডাকো
আমি।.. না না

আন্টি.. তা হলে ওই যে ডাকলে
আমি.. না না কই আমি তো বললাম ওও ভিতরে।
আন্টি.. না না তুমি তো বললা উনি তখনি শুভাকার আগমন
শুভাকা.. আন্টি ও আমাকে উনি করে বলছে তাই না.। আজ দেখাচ্ছি মজা সকালে ঝগরা করছি বলে আপনি করে বলছে
আন্টি.. ওও আচ্ছা বুঝেছি আমি এখন যাই

শুভাকা.. জি আন্টি.. আন্টি যাতেই ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল আর আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে…
আমি… আরে বাবা থিক্কু বউ আমার দিকে এ ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? আমি আবার কি করলাম
শুভাকা.. আন্টির সামনে আপনি করে বললেন কেনো
আমি.. আমি তো আপনাকে আপনি করেই বলি তাই না
শুভাকা.. আরে আপনি তো মহা গাধা উনাদের সামনেতো আমাদের আভিনয় করতে হবে
আমি.. কি ভাবে

শুভাকা.. আরে গাধা। তুমি করে বলতে হবে উনাদের সামনে এমন ভাবে চলতে হবে যাতে বুঝতে না পাড়ে আমরা স্বামী স্ত্রী না
আমি.. হঠাৎ যদি মুখ দিয়ে আপনি বের হয়ে যায়।
শুভাকা.. এইজন্য প্র্যাক্টিস করতে হবে
আমি.. তাহলেতো আমাদের একে অপর কে সর্বাদা তুমি করে বলতে হবে।
শুভাকা.. প্রয়োজন হলে এটাই করবো
আমি.. আচ্ছা তাহলে তোমাকে তুমি করেই বলবো আর তুমিও আমাকে তুমি করে বলবে
শুভাকা... ওকে

বিয়ে ছাড়া বউ
বিয়ে ছাড়া বউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.